1. admin@newsbanglatv24.com : admin :
বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:১৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
শুরু হোক রোজার প্রস্তুতি। পল্লবীতে ভোটকেন্দ্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ: ২ জামায়াত কর্মীকে ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন মন্দিরে শিব পূজা পালন। রংপুর-৪ ও ৬ আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবিতে বিক্ষোভ। মাইকে ঘোষণা দিয়ে এনসিপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চলছে : আখতার হোসেন। রুমিন ফারহানার সঙ্গে ছবি দিয়ে কী লিখলেন অপু বিশ্বাস। হাসনাত আবদুল্লাহর আসনে গণঅধিকারের প্রার্থীর ভোট বর্জন। রংপুর বিভাগে ঝুঁকিতে ২৫০০ কেন্দ্র, ৬ স্তরের নিরাপত্তা। নির্বাচনের প্রচারণার শেষ মুহূর্তে বাবা–মায়ের কবর জিয়ারত করলেন তারেক রহমান। ধানের শীষ জেতাতে ভোটের মাঠ কাঁপাচ্ছেন করিম উদ্দিন ভরসার সন্তানরা।

আত্মহত্যা করেছেন ঢাবির ‘ঘ’ ইউনিটের প্রথম হওয়া শিক্ষার্থী।

ডেস্ক রিপোর্ট
  • Update Time : সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী অনন্য গাঙ্গুলীর আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

গতকাল শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌর শহরের বাজার পাড়া এলাকায় নিজ বাসায় এ ঘটনা ঘটে। তার মৃত্যুতে পরিবারসহ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অনন্য গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী ও স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা রাধারানী ভট্টাচার্য্যের বড় সন্তান। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গুলীও বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই অনন্য ছিলেন মেধাবী। পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসি—তিনটি পরীক্ষাতেই বৃত্তি পেয়েছিলেন তিনি। তবে কলেজে ভর্তির পর মানসিক অসুস্থতাসহ নানা কারণে প্রায় পাঁচ বছর পড়ালেখা থেকে দূরে ছিলেন। দীর্ঘ বিরতির পর ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য দেখান তিনি। সে বছর বিজ্ঞান শাখা থেকে তিনি প্রথম হন। তার মোট প্রাপ্ত নম্বর ছিল ১০৩ দশমিক ৯৫।

পরিবার জানিয়েছেন, অনন্য দীর্ঘদিন মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। তার বাবা প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী ও মা রাধারানী ভট্টাচার্য্য বলেন, দীর্ঘদিনের মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গুলীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

অনন্য এর আগে গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় আমার গ্যাস্ট্রিক আলসারের কিছু জটিলতা দেখা দেয়। সে সময় বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফলও বেশ খারাপ হয়েছিল।

এসএসসির পর এই মানসিক আরও প্রকট হতে শুরু করে। অনন্য বলেন, তখন মেজর ডিপ্রেসিভ ডিজঅর্ডার, ওসিডি ও অ্যাংজাইটিতে ভুগছিলাম আমি। প্রথমে যশোর, এরপর ঢাকায় চিকিৎসা হল। উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতের তামিলনাড়ুর ভেলোরের একটি হাসপাতালেও নেওয়া হল। এসব চিকিৎসা নিয়ে মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও তখনও নিজেকে আমি পুরোটা ফিরে পাইনি।

এ অবস্থায় ভারতে চিকিৎসা নেওয়ার পর দেশে নিয়মিত কাউন্সেলিং চলতে থাকে অনন্যের। কিছুটা সুস্থ বোধ করলে ২০২১ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। মাত্র কয়েক মাস আগে পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। করোনাকালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এইচএসসি পরীক্ষা হওয়ায় সহজেই জিপিএ-৫ ছিনিয়ে আনেন তিনি। তার ভাষ্যে গল্পটা এরকম— রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম অনুযায়ী সে বছরই ছিল আমার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার শেষ সুযোগ। নইলে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হয়ে যেত। এইচএসসির পর প্রথম ভর্তি পরীক্ষা ছিল বিইউপিতে (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস)। প্রস্তুতি ছাড়াই সেখানে পরীক্ষা দিলাম। চান্সও পেয়ে গেলাম। তখন উপলব্ধি হলো, না পড়ে যদি বিইউপিতে চান্স পাই, তাহলে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও তো পেতে পারি। তখন থেকেই ঘ ইউনিট–কেন্দ্রিক পড়াশোনা শুরু করি। একটি কোচিং সেন্টারের অনলাইন ব্যাচে ভর্তি হই। অনলাইন হওয়ার সুবাদে বাসায় থেকেই ক্লাস করতাম। নিয়মিত পড়তাম তখন। দিনের বেশির ভাগ সময়ই বইয়ের পেছনে লেগে থাকতাম। কোচিং সেন্টারের লেকচারগুলো থেকে নোট নিয়ে রাখতাম। বাংলা ও ইংরেজিতে আগে থেকে দক্ষতা ছিল বলে ব্যাপারটা আমার জন্য বেশ সহজ হয়ে গেল।

অনন্যের বাবা প্রদ্যুৎ কুমার গাঙ্গুলী কোটচাঁদপুর পৌর মহিলা ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। তার মা রাধারানী ভট্টাচার্য্য স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা। তার ছোট বোন লিথি মনি গাঙ্গুলীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত।​

মৃত্যুর কারণ হিসেবে অনন্যের পরিবার বলছে, দীর্ঘদিনের সেই মানসিক যন্ত্রণা থেকেই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন।

কোটচাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আরো খবর দেখুন
© All rights reserved © 2025 BdiT
ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: BDiT