রংপুর প্রতিনিধিঃ
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) বিভিন্ন ধরনের অপরাধ দমন ও অপরাধী গ্রেফতারের মাধ্যমে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান এবং জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা প্রদানের দায়িত্বও নিয়মিতভাবে পালন করে থাকে র্যাব।
এরই ধারাবাহিকতায় রংপুর বিভাগের সব জেলার ঝুঁকি পর্যালোচনা করে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব-১৩ এর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টা থেকে একটি যৌথ মহড়া বোদা মডেল পাইলট স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে পাঁচপীর ও সাকুয়া এলাকা প্রদক্ষিণ করে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে বোদা উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে শেষ হয়। উক্ত মহড়ায় বোদা উপজেলা প্রশাসন, র্যাব-১৩ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
একই দিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সৈয়দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ঠাকুরগাঁও-২ আসনের হরিপুর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি মোকাবেলায় পৃথক দুটি যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এসব মহড়ায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও র্যাব-১৩ এর সদস্যরা অংশ নেন।
এছাড়া সোমবার সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত র্যাব-১৩ এর আয়োজনে নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলা ও নাওতারা ইউনিয়ন এলাকায় আরেকটি যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়াটি ডিমলা থানা এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে। এতে র্যাব-১৩, সিপিসি-২ নীলফামারী ক্যাম্প, বাংলাদেশ পুলিশ এবং বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) অংশগ্রহণ করে। এ সময় সশস্ত্র টহল, যানবাহন তল্লাশি ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
একই তারিখে বেলা ১১টা ৩০ মিনিট থেকে ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রংপুর জেলার মিঠাপুকুর এলাকাতেও একটি যৌথ মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে মিঠাপুকুর উপজেলা প্রশাসন, র্যাব-১৩, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে এবং নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে র্যাব-১৩ সহ যৌথ বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন ঘিরে যেকোনো ধরনের নাশকতা, সহিংসতা, গুজব, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিরাপত্তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং চেকপোস্ট, মোবাইল টহল ও বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। চিহ্নিত অপরাধী, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।