নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিজিটাল জালিয়াতি রুখতে বড় ধরনের সাফল্য দেখিয়েছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের মহানগর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। শহরের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে জালিয়াতি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে জালিয়াতির কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সরঞ্জাম।
রংপুর ডিবি পুলিশ জানায়, গতকালের অভিযানের ধারাবাহিকতায় আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান চালানো হয়। জালিয়াতি চক্রটি নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের অবৈধ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল।
আটককৃতদের হেফাজত থেকে অত্যাধুনিক সব ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে তারা অত্যন্ত সংঘবদ্ধভাবে এই জালিয়াতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে:
১৫টি বিভিন্ন ধরনের বিশেষ ডিভাইস
০৫টি স্মার্টফোন ও ০২টি ফিচার ফোন
১৩টি সিম কার্ড
০৭টি ব্লু-টুথ এয়ারপড ও ১৯টি এয়ারপড ব্যাটারি
ডিভাইস স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত ০১টি ফরসেপ
০৬টি ১০০ টাকার ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প ও ০২টি স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক
০২টি মোটরসাইকেল
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মিঠাপুকুরের সারোয়ার ইসলাম (৩০), পীরগাছার আল আমিন মোহাম্মদ আহাদ (৩৪), পীরগঞ্জের মেজবাহ হামিদুল্লাহ প্রধান (২৯), পীরগঞ্জের রাশেদুল ইসলাম রকি (২৮) এবং পাবনার চাটমোহর এলাকার জান্নাতুল ফেরদৌস বীথি (২৬)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা স্বীকার করেছে যে, তারা আসন্ন প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের কাছে উচ্চমূল্যে সরবরাহের উদ্দেশ্যে এসব সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছিল। কানের ভেতরে ক্ষুদ্র ডিভাইস স্থাপনের জন্য তারা বিশেষ ফরসেপ ও ব্যাটারিও মজুদ করেছিল।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের জালিয়াতি রুখতে পুলিশের এই কঠোর অবস্থান ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।