আন্তর্জাতিক ডেস্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রাচীন মিসরের স্বৈরাচারী শাসক ‘ফেরাউন’-এর সঙ্গে তুলনা করে একটি ব্যঙ্গাত্মক কার্টুন পোস্ট করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সোমবার (১২ জানুয়ারি) খামেনির অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এই বিতর্কিত পোস্টটি শেয়ার করা হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পোস্ট করা কার্টুনটিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একটি প্রাচীন মিশরীয় ধাঁচের পাথরের কফিন বা সারকোফাগাস হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। একটি অন্ধকার সমাধিক্ষেত্রের ভেতর রাখা ওই কফিনটির গায়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পতাকা এবং দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রতীক ‘গ্রেট সিল অব দ্য ইউনাইটেড স্টেটস’ খোদাই করা রয়েছে। ছবিতে দেখা যায়, কফিনটি মাঝখান থেকে ফেটে ভেঙে পড়ছে। কার্টুনটির ওপর বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে— ‘ফারাওয়ের মতো’।
ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় খামেনি ইতিহাসের কুখ্যাত ও দাম্ভিক শাসকদের পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বার্তায় বলা হয়:
”এই ব্যক্তি যে অহংকার ও দম্ভ নিয়ে সারা বিশ্বের বিচার করে, তার জানা উচিত—ফারাও (ফেরাউন), নমরুদ, রেজা খান এবং মোহাম্মদ রেজা শাহের মতো অত্যাচারী শাসকরা তাদের দম্ভের সর্বোচ্চ চূড়ায় থাকা অবস্থাতেই পতনের শিকার হয়েছিল। এটিও (ট্রাম্প প্রশাসন) উৎখাত হবে।”
বার্তায় বাইবেলে বর্ণিত নমরুদ এবং ইরানের ক্ষমতাচ্যুত পাহলভি রাজবংশের দুই সম্রাট—রেজা শাহ ও মোহাম্মদ রেজা শাহের পতনের উদাহরণ টেনে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের ব্যাপারে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের প্রাক্কালে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা এই পোস্টের মাধ্যমে আরও চরম আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে কাসেম সোলেইমানি হত্যাকাণ্ড এবং ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে তলানিতে ঠেকেছে।
এই পোস্টের বিষয়ে এখন পর্যন্ত হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ব্যঙ্গাত্মক কার্টুনটি নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।