সাগর মিয়া রংপুর প্রতিনিধি।
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় ১৩ দিন পার হলেও এখনো তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এতে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার। দ্রুত শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকার ও প্রশাসনের সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তার বাবা-মা। অপহৃত শিক্ষার্থীর নাম মোছাঃ জান্নাতারা নিঝুম (১৪)। সে হারাগাছ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী। এ ঘটনায় তার বাবা মোঃ লিজু (৪৩) গঙ্গাচড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয় ও প্রাইভেট সেন্টারে যাতায়াতের পথে একই এলাকার মোঃ বাবু মিয়া (১৯) দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের প্রলোভনে নিঝুমকে প্রেমের কুপ্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। বিষয়টি জানার পর বাবা অভিযুক্তকে সতর্ক করেন এবং স্থানীয়দের অবহিত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্ত ও তার সহযোগীরা মেয়েটির ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজতে থাকে। অভিযোগ অনুযায়ী,( ১ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে নিঝুম স্কুলে যাওয়ার পথে নিজ বাড়ি থেকে প্রায় ২৫০ মিটার দূরে শেখপাড়া এলাকায় পৌঁছালে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা বাবু মিয়া অজ্ঞাতনামা আরও ২/১ জনের সহায়তায় তাকে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণ করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলেও এর আগেই অপহরণকারীরা দ্রুত রংপুর শহরমুখী সড়ক ধরে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েটির কোনো সন্ধান পাননি। একই দিন বিকেলে অভিযুক্তদের বাড়িতে গিয়ে মেয়ের সন্ধান চাইলে তারা উল্টো গালিগালাজ করে এবং উদ্ধার প্রচেষ্টা চালালে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মেয়েটির বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে কিংবা তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। নিঝুমের বাবা-মা জানান, থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর আজ ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও তারা কোনো দৃশ্যমান আইনি অগ্রগতি দেখতে পাননি। মেয়েটি কোথায় আছে বা আদৌ ভালো আছে কিনা—এমন কোনো তথ্য না পাওয়ায় পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছে। তারা আশঙ্কা করছেন, মেয়েটিকে গুম করা হয়েছে নাকি হত্যা করা হয়েছে—এই দুশ্চিন্তায় পরিবারটি দিশেহারা। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্তের পরিবার মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত এবং আর্থিকভাবে প্রভাবশালী। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও থাকতে পারে বলে দাবি করেন তারা। এ অবস্থায় টাকার জোরে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কায় পরিবারটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
তাদের জোর দাবি, সরকার ও প্রশাসন যেন দ্রুততম সময়ে অপহৃত শিক্ষার্থীকে যেখানেই রাখা হোক না কেন উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মানিক মুঠোফোনে জানান, পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইনশাআল্লাহ আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই মেয়েটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে। একটি কিশোরী স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় দীর্ঘ সময়েও উদ্ধার না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। দ্রুত উদ্ধার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।