নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:
গোবিন্দগঞ্জ সন্তানকে সুপথে ফেরানোর সব চেষ্টা যখন ব্যর্থ হয়, তখন একজন মায়ের আহাজারি কতটা পাথরচাপা কষ্টের হতে পারে, তার সাক্ষী হলো গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ। মাদকাসক্ত সন্তানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এবং তার জীবন বাঁচাতে অবশেষে নিজের হাতে ছেলের পায়ে শিকল পরিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কার্যালয়ে হাজির হলেন এক হতভাগা মা।
বুধবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানার কার্যালয়ে এই মর্মান্তিক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। মাদকের টাকার জন্য সে নিয়মিত বাড়িতে ভাঙচুর ও পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। সন্তানের এমন অধঃপতন দেখে বারবার সংশোধনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তার মা। শেষ পর্যন্ত উপায়ান্তর না দেখে সমাজের অভিশাপ থেকে সন্তানকে রক্ষা করতে এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেন।
সরেজমিনে মা ও শিকলবন্দি ছেলেকে দেখার পর ইউএনও সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। মাদক সেবনের কথা স্বীকার করা এবং মায়ের আকুতি বিবেচনা করে অভিযুক্ত যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা গণমাধ্যমকে বলেন, “একজন মায়ের কাছে তার সন্তান সবচেয়ে প্রিয়। সেই মা যখন নিজের সন্তানকে শিকল পরিয়ে বিচারের জন্য নিয়ে আসেন, তখন বুঝতে হবে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ। মাদকের করাল গ্রাস একটি পরিবারকে কতটা নিঃস্ব করে দিতে পারে, এটি তার বড় প্রমাণ। মাদক নির্মূলে আমাদের অভিযান এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
ইউএনও কার্যালয়ে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিকল পরা অবস্থায় ছেলেকে দেখে মা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। সেখানে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সচেতন মহল মনে করছেন, মাদকের ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে এটি সমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।