ডেস্ক রিপোর্ট।
৩২ বছর সংসার করার পর ১০ লাখ টাকার চুক্তিতে ভাড়াটে খু-নি নিয়োগ করে স্বামীকে হ-ত্যা করলো স্ত্রী এমন নৃশংস ঘটনায় স্তব্ধ দিনাজপুরের বীরগঞ্জে।
পরকীয়া সম্পর্কের বাধা সরাতেই এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ।
ঘটনাটি এলাকাবাসী কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জে কৃষক দানিয়ুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ।
পরকীয়ার সম্পর্কের পথে স্বামী বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে নিহতের স্ত্রী মোছা সুলতানা রাজিয়া ওরফে পপি (৪১), তার পরকীয়া প্রেমিক দিনাজপুর শহরের মহারাজা মোড় এলাকার শাহ আলম কল্লোল (৫৬) এবং ভাড়াটে খু-নি বাগেরহাট সদর উপজেলার উৎকুল গ্রামের মোতালেব শেখের ছেলে আবু বক্কর ওরফে বাদশা (২৬)।
তদন্তে উঠে এসেছে, পরকীয়া সম্পর্ক নির্বিঘ্ন করতে শাহ আলম কল্লোল ও সুলতানা রাজিয়া পরস্পর যোগসাজশে অর্থের বিনিময়ে পেশাদার খুনিদের ভাড়া করেন। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভোররাতে ঘাতকরা দানিয়ুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে নিজ শয়নকক্ষে গ-লা কে-টে হ-ত্যা করে।
৩২ বছর একসঙ্গে সংসার করার পর একজন স্ত্রী যদি নিজের স্বামীকে ভাড়াটে খু-নি দিয়ে হ-ত্যা করতে পারে, তাহলে প্রশ্ন উঠে যায়—আমরা কোন সমাজের দিকে এগোচ্ছি?
আজ স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক ভেঙে পড়ছে নৈতিকতার অভাবে। সাময়িক আবেগ, লোভ আর অবৈধ সম্পর্কের কাছে হার মানছে বিবেক। কিন্তু খু-নে-র পথে গেলে শুধু একটি মানুষ নয়, ধ্বংস হয় একটি পরিবার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সমাজের বিশ্বাসের ভিত্তি।
এই ধরনের ঘটনা সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলে। মানুষ আপনজনকেই ভয় পেতে শুরু করে। স্বামী স্ত্রীর ওপর, স্ত্রী স্বামীর ওপর, সন্তান বাবা-মায়ের ওপর বিশ্বাস হারায়।
পরিবার যা ছিল সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সেটিই আজ সবচেয়ে অনিরাপদ হয়ে উঠছে।
৩২ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর যদি একজন স্ত্রীই স্বামীর প্রাণ নিতে পারে, তবে সমাজ থেকে পারিবারিক মর্যাদা উঠে যাবে।
মানুষ আপনজনের প্রতি বিশ্বাস হারিয়ে ফেলবে যা একটি সভ্য সমাজের জন্য মারাত্মক বিপদের ইঙ্গিত।