নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর।
রংপুরে পুলিশ হেফাজতে মাদক মামলার এক আসামির রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রংপুর মেডিকেল মোড় এলাকা। নিহতের পরিবারের দাবি, পুলিশের নির্যাতনে তার মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টা থেকে মেডিকেল মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী।
নিহত ব্যক্তির নাম মুকুল, পেশায় তিনি একজন ট্রাক চালক ছিলেন। পুলিশ জানায়, তিনি রংপুরের পরশুরাম থানার একটি মাদক মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছিলেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে যখন মুকুল গরুকে পানি খাওয়াচ্ছিলেন, তখন পরশুরাম থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে তাকে ধরে নিয়ে যায়। সেই সময় তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। গ্রেপ্তারের কিছুক্ষণ পরেই তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
নিহত মুকুলের স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “সে সময় সে পুরোপুরি সুস্থ ছিল। তার কোনো রোগ ছিল না। পুলিশ তাকে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মৃত্যুর খবর এল। সুস্থ মানুষ যাওয়ার পরই কীভাবে মারা গেল? লাশ ফেলে পুলিশ কেন পালিয়ে গেল? আমার দুইটা ছোট বাচ্চা, তাদের আমি এখন কীভাবে মানুষ করব?”
পরিবারের দাবি, হেফাজতে থাকাকালে অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমেই তাকে মেরে ফেলা হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষী পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পরশুরাম থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, আসামিকে আটকের পর তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মুকুল স্ট্রোক করে মারা গেছেন। হাসপাতালের ওয়ার্ডবয়রা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রাত দেড়টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের ফলে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কসহ বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী মালবাহী ট্রাক ও দূরপাল্লার বাসগুলো দীর্ঘ সময় আটকা পড়ে থাকে। এতে সাধারণ যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, এই ঘটনার পেছনে দায়ীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় না আনা হলে তারা রাজপথ ছাড়বেন না।