ডেস্ক রিপোর্ট
প্রতিবেশী মনির হোসেনের সঙ্গে বিরোধের জেরে তার আট বছরের মেয়ে ইরা মনিকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল বাবু শেখের। এর অংশ হিসেবে শিশুটিকে ফুঁসলিয়ে সীতাকুণ্ডের পাহাড়ে নিয়ে প্রথমে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’, পরে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা চালান তিনি।
শিশুটিকে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪৫ বছর বয়সি বাবু শেখ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশের ভাষ্য।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন সীতাকুণ্ড থানায় সংবাদ সম্মেলনে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে এমন তথ্য দেন।
জেলা পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মারা যাওয়া শিশুর বাবা মনিরের সঙ্গে বাবু শেখের পারিবারিক বিরোধ ছিল। বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হতো। এর জের ধরে মনিরের মেয়েকে হত্যা করে প্রতিশোধ নেয়ার পরিকল্পনা করে।
বাবু শেখকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে ঘটনার বর্ণনায় পুলিশ বলছে, শিশুটিকে পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে গ্রেপ্তার ব্যক্তি। শিশুটি এ ঘটনা লোকজনকে বলে দেবে বলে চিৎকার করলে বাবু শেখ চাকু দিয়ে গলা কেটে ফেলে রেখে চলে আসে।
পরে শিশুটি বোটানিক্যাল গার্ডেনের নির্মাণাধীন রাস্তা দিয়ে আসার সময় শ্রমিকরা তাকে দেখে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
শিশুটি মারা যাওয়ার খবরের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে উপজেলার কুমিরার কাজীপাড়া এলাকা থেকে বাবু শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বাড়ি গাইবান্ধায় হলেও থাকতেন কুমিরাতে মনির হোসেনের বাড়ির পাশে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় রোববার ছুরিকাঘাতে শ্বাসনালী কাটা অবস্থায় ইরা মনিকে উদ্ধার করেন শ্রমিকরা। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মঙ্গলবার সকালে মারা যায়।
মারা যাওয়া ইরা মনির বাড়ি ছোট কুমিরা মাস্টার পাড়ায়। তার বাবা মনিরুল ইসলাম পেশায় একজন টমটম চালক। স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল ইরা।
সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেনের পাহাড়ে রোববার দুপুরে সড়ক সংস্কার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ‘গলা কাটা অবস্থায়’ তাকে দেখতে পান। জঙ্গল থেকে হেঁটে শিশুটি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছেছিল।
এরপর শ্রমিকরা শিশুটিকে নিয়ে যায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখান থেকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মঙ্গলবার ইরা মনি মারা যায়।
পুলিশ বলছে, পারিবারিক বিরোধের জেরে গত রোববার সকালে শিশুটিকে চকলেট কিনে দিয়ে বেড়াতে যাবার কথা বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসে। সেখান থেকে বাসে করে কুমিরা থেকে সীতাকুণ্ডে যায়। সেখানে হেঁটে তারা বোটানিক্যাল গার্ডেন এলাকার পাহাড়ে যায়।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাবু শেখের দেওযা তথ্য মতে বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনার পেছনে আর কোন কারণ আছে কি না তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে কি না ফরেনসিক প্রতিবেদনের পর তা জানা যাবে বলে পুলিশ জানায়।